বিশ্বের শীর্ষ গম আমদানিকারক দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে পড়ছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন। খাতসংশ্লিষ্ট ও বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও স্থানীয় চাহিদা কমে যাওয়ার বিষয়টি চলতি বছর বৈশ্বিক গম বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর বৈশ্বিক গম আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমতে পারে। ফলে নিম্নমুখী হয়ে আসতে পারে খাদ্যশস্যটির দাম। এছাড়া এ সময় বৈশ্বিক মজুদ কমে নয় বছরের সর্বনিম্নে নেমে যেতে পারে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গত বছর কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চল, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে গম উৎপাদন কমেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, শীর্ষ আমদানিকারক দেশগুলো গম ক্রয় কমালে বিশ্ববাজারে তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম। তবে এতে অস্ট্রেলিয়ার কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। কারণ চলতি বছর জমি থেকে তাদের ফসল সংগ্রহ প্রায় রেকর্ড সর্বোচ্চের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
মিল মালিক, ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে চীনের গম আমদানি গত বছরের তুলনায় অর্ধেকের বেশি কমে যেতে পারে। দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক ইন্দোনেশিয়া ও তৃতীয় স্থানে থাকা মিসরের চাহিদাও কমতে পারে। এছাড়া এ সময় ইরাকের আমদানিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমে আসবে।
চীন সম্প্রতি ছয় লাখ টন গম আমদানির সময় পিছিয়ে দিয়েছে। সাংহাইভিত্তিক সিটোনিয়া কনসালটিংয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ড্যারিন ফ্রেডরিখ বলেন, ‘অনুকূল আবহাওয়ার কারণে গত বছর দেশটিতে ভালো মানের গম উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে। ফলে আমদানির খুব বেশি প্রয়োজন নেই।’
সিডনির কমনওয়েলথ ব্যাংকের বিশ্লেষক ডেনিস ভোজনেসেনস্কি বলেন, ‘প্রধান গম আমদানিকারক দেশগুলোয় উৎপাদন বাড়ছে, যা বাজারে দীর্ঘমেয়াদে চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে।’
গত মাসে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত চীনের গম উৎপাদন ২ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়তে পারে। এতে আমদানি ৩৭ শতাংশ কমে ৮০ লাখ টনে নেমে আসতে পারে। চাইনিজ ন্যাশনাল গ্রেইনস অ্যান্ড অয়েলস ইনফরমেশন সেন্টারের দেয়া তথ্যের বরাতে এ পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএসডিএ।
ভোজনেসেনস্কি বলেন, ‘সামরিক ও বাণিজ্য যুদ্ধের মতো বর্তমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আমদানিকারক দেশগুলো বৈশ্বিক সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল না থেকে উৎপাদন বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় গমের বৈশ্বিক মজুদও সংকুচিত হচ্ছে। ইউএসডিএ পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি বছরের জুন নাগাদ বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যটির মজুদ নয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে আসতে পারে।
বড় আমদানিকারক দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমায় গম ব্যবহারও কমে যেতে পারে। শীর্ষ আমদানিকারকদের মধ্যে চীনের অর্থনীতি ধীরগতিতে বাড়বে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার প্রবৃদ্ধি স্থবির এবং মিসরের ২০২৩-২৪ সালের জিডিপি আগের বছরের তুলনায় কম হবে।
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল। তবে গমের আমদানি ব্যয় স্থিতিশীল বা কিছু ক্ষেত্রে বেড়েছে। কারণ অনেক উন্নয়নশীল দেশের মুদ্রা বিনিময় হার ডলারের তুলনায় কমে গেছে। এছাড়া এ সময় মার্কিন-চীন বাণিজ্য যু্দ্ধের কারণে চীনা ইউয়ানের বিনিময় হার নিম্নমুখী ছিল। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়াহ ও মিসরের পাউন্ড ডলারের বিপরীতে প্রায় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।